বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক সহিংসতা পরিমাপকারী এক নতুন গবেষণা অনুসারে বিশ্বের ৫০টি সবচেয়ে বেশি সংঘাতপূর্ণ দেশের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমা দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম উঠে এসেছে।
এই গবেষণা পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের ইউসকনসিন অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট বা এসিএলইডি-এর মতে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমেরিকায় ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অতি-ডানপন্থী গোষ্ঠীর বিস্তারের কারণে দেশটি এই তালিকায় ঢুকে পড়েছে।
২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত বিশ্বের ২৪০টি দেশ ও অঞ্চলের সংঘাতের তথ্য সংগ্রহ করে অলাভজনক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এসিএলইডি। এই তথ্যের ভিত্তিতে এই গবেষণা গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
এতে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় এ বছর সহিসংতা ২৭ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১ লাখ ৩৯ হাজার।
প্রতিবছর চারটি মানদণ্ড ধরে সহিংস দেশের তালিকা প্রকাশ করে এসিএলইডি। এই মানদ-গুলো হলো সহিংসতায় নিহতের ঘটনা, জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি, সহিংসতাপ্রবণ এলাকার আয়তন, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংখ্যা।
অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর মোটামুটি সব দেশেই কমপক্ষে একটি হলেও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
যে ৫০টি দেশ সহিংসতাপ্রবণ দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে তার মরেধ্য তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিয়ানমার। এরপর রয়েছে সিরিয়া ও মেক্সিকো। উত্তাল সহিংস দেশের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকা রয়েছে লিবিয়া, ঘানা ও চাদ। আর বাকি দেশগুলোর অধিকাংশই আফ্রিকা ও এশিয়ার।
নতুন এই গবেষণা প্রতিবেদন এবং এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থান পাওয়া প্রসঙ্গে এসিএলইডির জনসংযোগ বিভাগের প্রধান স্যাম জোনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকায় স্থান পাওয়ার মধ্য দিয়ে এটা সামনে এল যে রাজনৈতিক সহিংসতা শুধু দরিদ্র ও অগণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
তিনি আরও বলেন, যে মানদ-গুলোর ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংখ্যা। এই দুই মানদ-ের বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা বেড়েছে। এ জন্য সহিংসতাপ্রবণ দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সহিংসতাপ্রবণ ৫০ দেশের তালিকায় ২২ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রকাশিত এই তালিকায় দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিরিয়া, মেক্সিকো, ইউক্রেন ও নাইজেরিয়া।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের আগে ২১ নম্বরে রয়েছে সোমালিয়া। আর পরে ২৩ নম্বরে রয়েছে কেনিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতের নাম রয়েছে ১৬ নম্বরে এবং ১৯ নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান।